English LearningSelf ImprovementEducation

ইংরেজি শেখায় বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন? আসল কারণটা জানুন

Share:
ইংরেজি শেখায় বারবার ব্যর্থ হচ্ছেন? আসল কারণটা জানুন

ভূমিকা: ব্যর্থতা কি আপনার নিয়তি?

কখনও কি এমন মনে হয়েছে যে ইংরেজি শেখাটা আপনার জন্য এক দুর্ভেদ্য দেয়াল? আপনি মাসের পর মাস গ্রামার বই পড়েছেন, শত শত শব্দ মুখস্থ করেছেন, এমনকি ইউটিউবে প্রচুর টিউটোরিয়ালও দেখেছেন। কিন্তু যখনই কারও সামনে ইংরেজিতে কথা বলার সময় আসে, তখনই বুক ধড়ফড় শুরু হয়, শব্দগুলো জিভের আগায় এসেও হারিয়ে যায়। আপনি একা নন, বাংলাদেশের হাজার হাজার শিক্ষার্থী এবং পেশাজীবী প্রতিদিন এই একই পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন। কিন্তু কেন এমন হয়? কেন আমরা কয়েক বছর ইংরেজি মাধ্যমে পড়েও দুই মিনিট অনর্গল ইংরেজিতে কথা বলতে পারি না? এর পেছনে কি মেধার অভাব কাজ করে, নাকি আমাদের শেখার পদ্ধতিতে কোনো বড় ভুল রয়ে গেছে? আজ আমরা খোলামেলা আলোচনা করব সেই আসল কারণগুলো নিয়ে, যা আমাদের সাবলীল ইংরেজি বলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

১. ব্যাকরণের গোলকধাঁধায় হারিয়ে যাওয়া

আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় ইংরেজি শেখার কথা বললেই সবার আগে চলে আসে ‘গ্রামার’ বা ব্যাকরণ। ছোটবেলা থেকে আমরা শিখেছি Tense, Voice Change, Narration আর Clause। সমস্যাটা এখানেই। আপনি যখন সাঁতার শিখতে যান, তখন কি আগে ডাইভিংয়ের সূত্র মুখস্থ করেন নাকি সরাসরি পানিতে নামেন? অবশ্যই পানিতে নামেন। ইংরেজি একটি ভাষা, এটি কোনো গণিত নয়। আমরা যখন বাংলায় কথা বলি, তখন কি মাথায় চিন্তা করি যে এটা কোন ‘কাল’ বা কোন ‘পদ’? অবশ্যই না। অথচ ইংরেজি বলার সময় আমরা আগে মাথায় একটি বাক্য সাজাই, তারপর সেটাকে ব্যাকরণের তুঁলাদণ্ডে মেপে অনুবাদ করার চেষ্টা করি। এই যে অনুবাদ করার এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া, এটাই আপনার সাবলীলতাকে নষ্ট করে দেয়। আপনি যত বেশি ব্যাকরণ নিয়ে ভাববেন, আপনার কথা বলার গতি তত বেশি কমে যাবে এবং আপনি আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলবেন।

কেন এটি ভুল?

অত্যধিক ব্যাকরণ সচেতনতা আপনার সৃজনশীলতাকে মেরে ফেলে। আপনি যখন নির্ভুলতার পেছনে ছোটেন, তখন আপনার মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবে কথা বলার সুযোগ পায় না। ভুল হওয়ার ভয়ে আপনি কথা বলা বন্ধ করে দেন, আর কথা বলা বন্ধ মানেই শেখার রাস্তায় দাড়ি পড়া।

২. ‘লিসেনিং’ বা শোনার গুরুত্বকে অবজ্ঞা করা

একজন শিশু কীভাবে কথা বলতে শেখে? সে কি আগে বর্ণমালা শেখে নাকি তার বাবা-মায়ের কথা শোনে? উত্তরটা খুব সহজ। সে দীর্ঘ ১-২ বছর শুধু শোনে। শোনার মাধ্যমেই তার মস্তিষ্কে শব্দের ভাণ্ডার তৈরি হয় এবং সে অনুকরণ করতে শেখে। আমাদের ইংরেজি শেখার ব্যর্থতার অন্যতম প্রধান কারণ হলো আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে ইংরেজি শুনি না। আমরা শুধু পড়ি আর লিখি। পড়ার সময় আমরা শব্দগুলো চোখে দেখি, কিন্তু আমাদের কান ও মস্তিষ্ক শব্দের উচ্চারণের সাথে পরিচিত হয় না। ফলে যখন কেউ আমাদের সামনে স্বাভাবিক গতিতে ইংরেজি বলে, আমরা তা বুঝতে পারি না।

কীভাবে উন্নতি করবেন?

আপনার প্রতিদিনের রুটিনে অন্তত ৩০ মিনিট ‘পডকাস্ট’ বা ইংরেজি কথোপকথন শোনার অভ্যাস করুন। এটা হতে পারে কোনো ইন্টারভিউ, মুভি বা খবর। তবে মনে রাখবেন, এমন কিছু শুনবেন যা আপনি অন্তত ৫০-৬০ শতাংশ বুঝতে পারেন। একেবারে দুর্বোধ্য কিছু শুনলে আপনার মস্তিষ্ক তা গ্রহণ করবে না।

৩. অনুবাদের মরণফাঁদ

আমরা বাঙালিরা ইংরেজি শেখার সময় সবচেয়ে বড় ভুলটি করি ‘বাংলা থেকে ইংরেজি’ অনুবাদ করার মাধ্যমে। আপনি যখন বাংলা বাক্যকে ইংরেজিতে রূপান্তর করেন, তখন বাক্যের গঠন অনেক ক্ষেত্রেই প্রাকৃতিক বা ন্যাচারাল হয় না। ইংরেজি ভাষার নিজস্ব একটি ছন্দ আছে, নিজস্ব বাচনভঙ্গি আছে। যেমন, বাংলায় আমরা বলি ‘আমার ক্ষুধা লেগেছে’, এটাকে সরাসরি অনুবাদ করলে হয় ‘My hunger has attached’। কিন্তু ইংরেজিতে সহজভাবে বলা হয় ‘I am hungry’। এই যে মানসিক অনুবাদের প্রক্রিয়া, এটি আপনাকে কখনও একজন ‘নেটিভ স্পিকার’-এর মতো চিন্তা করতে দেয় না।

সমাধান কী?

সরাসরি ইংরেজিতে চিন্তা করার চেষ্টা করুন। ছোট ছোট শব্দ দিয়ে শুরু করুন। আপনার চারপাশের জিনিসগুলোর নাম ইংরেজিতে মনে করার চেষ্টা করুন। যখন কোনো বাক্য বলবেন, তখন সেটাকে কোনো বাংলা বাক্যের প্রতিচ্ছবি না বানিয়ে বরং সিচুয়েশন বা পরিস্থিতির সাথে মিলিয়ে ভাবুন।

৪. তথাকথিত ‘পারফেকশনিজম’ বা নিখুঁত হওয়ার ভূত

অনেকেই ভাবেন, ‘আমি যখন পুরোপুরি নির্ভুল ইংরেজি বলতে পারব, তখনই মানুষের সামনে মুখ খুলব’। এই চিন্তাটাই আপনার শেখার গতির প্রধান শত্রু। ভুল করা মানেই আপনি শিখছেন। পৃথিবীতে এমন কোনো সফল মানুষ নেই যিনি ভুল না করে কিছু শিখেছেন। আপনি যখন বিদেশি কাউকে বাংলা বলতে শোনেন এবং সে যদি ভুলভাবে বলে, আপনি কি তাকে হাসাহাসি করেন? মোটেই না, বরং আপনি তার চেষ্টাকে সাধুবাদ জানান। ইংরেজদের ক্ষেত্রেও তাই। তারা আপনার গ্রামাটিক্যাল ভুল খুঁজতে বসে নেই, তারা শুধু আপনার ভাবটা বুঝতে চায়।

৫. চর্চার অভাব এবং পরিবেশের দোহাই

আমরা প্রায়ই বলি, ‘আমার কথা বলার তো কোনো পার্টনার নেই’ অথবা ‘আমাদের দেশে তো ইংরেজি বলার পরিবেশ নেই’। সত্যি বলতে, আজকের ইন্টারনেটের যুগে এই অভিযোগগুলো নিছক একটি অজুহাত। গুগল, ইউটিউব, এআই চ্যাটবট থেক শুরু করে হাজারো ফ্রি অ্যাপ আছে যেখানে আপনি কথা বলার প্র্যাকটিস করতে পারেন। ঘরোয়া পরিবেশে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের সাথে কথা বলাও একটি অসাধারণ ব্যায়াম। আমরা আসলে শিখতে চাই অনেক কিছু, কিন্তু তার জন্য যে কায়িক বা মানসিক পরিশ্রম প্রয়োজন, তা দিতে চাই না।

৬. শব্দভাণ্ডার বাড়াতে ভুল পদ্ধতি প্রয়োগ

অনেকে ডিকশনারি নিয়ে বসে শব্দ মুখস্থ করেন। বিশ্বাস করুন, এভাবে আপনি ১০০টি শব্দ মুখস্থ করলে পরের দিন ১০টিও মনে থাকবে না। শব্দ শিখতে হয় ‘কন্টেক্সট’ বা প্রসঙ্গের মাধ্যমে। একটি শব্দ বাক্যে কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, সেটা না জানলে ওই শব্দের কোনো মূল্য নেই। উদাহরণস্বরূপ, ‘Get’ শব্দটির শত শত ব্যবহার আছে। এটি শুধু মুখস্থ করে আপনি আয়ত্ত করতে পারবেন না, যতক্ষণ না আপনি এর বিভিন্ন প্রয়োগ দেখছেন।

৭. ধারাবাহিকতার অভাব

ইংরেজি শেখা কোনো শর্টকাট কোর্স নয়। এটি একটি ম্যারাথন দৌড়ের মতো। আমাদের অনেকের মধ্যেই ‘জোশ’ কাজ করে প্রথম কয়েকদিন। সাত দিন খুব মন দিয়ে পড়ালেখা করি, তারপর আবার যে কেই সেই। ভাষা শেখার জন্য দরকার প্রতিদিনের সংযোগ। আপনি দিনে ১০ ঘণ্টা পড়ার চেয়ে প্রতিদিন ১৫ মিনিট পড়া অনেক বেশি কার্যকর। যখন আপনি দীর্ঘ বিরতি দেন, আপনার মস্তিষ্ক অর্জিত জ্ঞানগুলো ফাইলবন্দি করে ফেলে এবং আবার শুরু করাটা অনেক বেশি কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

উপসংহার: আপনিও পারবেন

ইংরেজি শেখাটা রকেট সায়েন্স নয়। এটি কেবল একটি যোগাযোগের মাধ্যম। আপনি যদি আপনার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করেন—যদি ব্যাকরণের ভয় কাটিয়ে শোনার ওপর জোর দেন এবং ভুল করার সাহস সঞ্চয় করেন, তবে কয়েক মাসের মধ্যেই আপনি নিজের মধ্যে আমূল পরিবর্তন দেখতে পাবেন। মনে রাখবেন, ব্যর্থতা মানেই শেষ নয়, ব্যর্থতা মানে আপনার পদ্ধতিতে ত্রুটি আছে যা সংশোধন করা সম্ভব। আজ থেকেই শুরু করুন, ছোট ছোট পদক্ষেপ নিন। আগামী এক বছর পর আপনি নিজেকে আজকের জন্য ধন্যবাদ দেবেন।

আপনার ইংরেজি শেখার যাত্রায় কোন বিষয়টি সবচেয়ে বড় বাধা বলে আপনার মনে হয়? কমেন্টে আমাদের জানান, আমরা চেষ্টা করব আপনাকে সমাধান দিতে।