English LearningSelf ImprovementEducation

সকালে উঠেই ইংরেজিতে কথা বলার অভ্যাস গড়বেন যেভাবে

Share:
সকালে উঠেই ইংরেজিতে কথা বলার অভ্যাস গড়বেন যেভাবে

ঘুম ভাঙলেই প্রথম শব্দটি হোক ইংরেজিতে

কল্পনা করুন তো, বাইরের ঝকঝকে রোদেলা সকাল, আপনার কানে পাখির ডাক আসছে, আর আপনি আড়মোড়া ভেঙে উঠে বসলেন। সাধারণত আমরা কী করি? বাংলাতেই ভাবি, 'আজ অনেক দেরি হয়ে গেল' কিংবা 'এক কাপ চা দরকার'। কিন্তু আপনি যদি আপনার ইংরেজি শেখার যাত্রাকে এক ধাপ এগিয়ে নিতে চান, তবে এই প্রথম চিন্তাটাই হওয়া উচিত ইংরেজিতে। আপনি বলতে পারেন, "It’s a beautiful morning!" কিংবা "I need a cup of tea right now." এটি শুনতে খুব সাধারণ মনে হলেও, আপনার অবচেতন মনকে ইংরেজি ভাষার সাথে অভ্যস্ত করার এটাই সেরা উপায়।

সকালবেলা আমাদের মস্তিষ্ক একটি 'ব্ল্যাঙ্ক স্লেট' বা খালি স্লেটের মতো থাকে। সারাদিনের ব্যস্ততা, কাজের চাপ বা দুশ্চিন্তা তখনও আমাদের মাথায় জেঁকে বসেনি। এই ফ্রেশ মুডে আপনি যা শিখবেন বা যে অভ্যাসের চর্চা করবেন, তা আপনার স্মৃতিতে দীর্ঘস্থায়ী হবে। আমরা অনেকেই সারাদিন ইংরেজি শেখার কথা ভাবি, কিন্তু দিনশেষে ক্লান্তির কারণে আর হয়ে ওঠে না। তাই 'মর্নিং রিচুয়াল' হিসেবে ইংরেজিকে বেছে নেওয়া হবে আপনার জীবনের অন্যতম সেরা সিদ্ধান্ত।

সেলফ-টক বা নিজের সাথে কথা বলা

অনেকেই ভাবেন, ইংরেজি বলার জন্য তো একজন পার্টনার বা সঙ্গী প্রয়োজন। কিন্তু সত্যি বলতে, শুরুতে আপনার সবচেয়ে বড় সঙ্গী হলেন আপনি নিজেই। সকালে যখন আপনি ব্রাশ করছেন বা আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মুখ ধোচ্ছেন, তখন নিজের সাথে কথা বলুন। আয়নায় তাকিয়ে নিজেকে বলুন, "Good morning! You look fresh today." অথবা সারাদিনের পরিকল্পনাটা মনে মনে ইংরেজিতে সাজিয়ে ফেলুন। যেমন: "First, I will have my breakfast, then I have to prepare for the meeting at 10 AM."

এই ধরণের সেলফ-টক আপনার জড়তা কাটিয়ে দেয়। মানুষের সামনে ইংরেজিতে কথা বলতে গিয়ে আমরা যে ভয় পাই, তা মূলত আমাদের চিন্তার জড়তা। যখন আপনি নিজের সাথে ইংরেজিতে কথা বলা শুরু করবেন, তখন আপনার মস্তিষ্ক বাংলা থেকে ইংরেজিতে অনুবাদ করার প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করতে শিখবে। এর ফলে ধীরে ধীরে মানুষের সামনে কথা বলার সময় আপনার শব্দ হাতড়াতে হবে না।

ডায়েরি রাইটিং বা টু-ডু লিস্ট তৈরি

সকালে উঠেই আমরা অনেকেই সারাদিনের কাজের একটা তালিকা করি। এই তালিকাটি বাংলায় না লিখে ইংরেজিতে লেখার চেষ্টা করুন। একে আমরা 'সকাল বেলার জার্নালিং' বলতে পারি। ধরুন, আপনি লিখলেন- "I must complete the report by noon." অথবা "I have to call my mother in the evening." এই ছোট ছোট বাক্যগুলো আপনার লেখার দক্ষতা যেমন বাড়াবে, তেমনি এগুলো যখন আপনি মনে মনে উচ্চারণ করবেন, তখন আপনার বলার দক্ষতাও উন্নত হবে।

ইংরেজিতে একটি কথা আছে, "Practice makes a man perfect." কিন্তু আমি বলি, "Right practice makes a man perfect." সকালের এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলোই হচ্ছে সেই 'রাইট প্র্যাকটিস'। আপনি যদি প্রতিদিন মাত্র ১০ মিনিট এই কাজগুলো করেন, তবে মাস শেষে দেখবেন আপনার আত্মবিশ্বাস আকাশচুম্বী হয়ে গেছে।

ইংরেজি নিউজ বা পডকাস্ট শোনা

সকালে যখন আপনি প্রাতঃরাশ তৈরি করছেন বা কফি খাচ্ছেন, তখন টেলিভিশনে বাংলা খবরের বদলে বিবিসি বা সিএনএন-এর মতো ইংরেজি নিউজ চ্যানেল চালিয়ে দিতে পারেন। যদি টিভি দেখার সময় না থাকে, তবে স্পটিফাই বা ইউটিউবে কোনো মোটিভেশনাল ইংরেজি পডকাস্ট শুনতে পারেন। এখানে উদ্দেশ্য কিন্তু সব বোঝা নয়, বরং ইংরেজি শব্দের সুর বা 'রিদম' আপনার কানে পৌঁছানো।

আমরা যখন ছোটবেলায় মাতৃভাষা শিখেছি, তখন কিন্তু আগে ব্যাকরণ শিখিনি। আমরা শুনেছি এবং অনুকরণ করেছি। সকালের এই পডকাস্ট শোনার অভ্যাসটি আপনাকে সেই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ইংরেজি শিখতে সাহায্য করবে। আপনি খেয়াল করবেন, কিছু নির্দিষ্ট শব্দ বা বাক্যাংশ তারা বারবার ব্যবহার করছে। সেই শব্দগুলো অবচেতনভাবে আপনার মাথায় গেঁথে যাবে এবং কথা বলার সময় সেগুলো অনায়াসে বেরিয়ে আসবে।

ভুল করার ভয় ঝেড়ে ফেলুন

আমাদের ইংরেজি না বলতে পারার প্রধান কারণ হলো ভুল করার ভয়। আমরা ভাবি, 'ইজ' হবে নাকি 'আর' হবে? গ্রামার ঠিক হচ্ছে তো? সকালে যখন আপনি প্র্যাকটিস করবেন, তখন গ্রামারের কথা একদম ভুলে যান। আপনার লক্ষ্য হবে শুধু যোগাযোগ করা। ভুল ইংরেজি বলাও একদম চুপ থাকার চেয়ে অনেক ভালো। মনে রাখবেন, ইংরেজি আমাদের মাতৃভাষা নয়, তাই ভুল হওয়াটাই স্বাভাবিক।

প্রতিদিন সকালে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে অন্তত পাঁচটি বাক্য ভুল হলেও জোরে জোরে বলুন। আপনার কান যখন আপনার নিজের মুখ থেকে ইংরেজি শুনবে, তখন আপনার জড়তা কাটতে শুরু করবে। এটি একটি মানসিক খেলা। আপনি যত বেশি নিজেকে ইংরেজি বলতে শুনবেন, আপনার মস্তিষ্ক তত বেশি বিশ্বাস করতে শুরু করবে যে, আপনি ইংরেজিতে দক্ষ।

মোবাইল ফোনের ভাষা পরিবর্তন করুন

সকালে ঘুম থেকে উঠে আমরা সবাই কমবেশি মোবাইলে নোটিফিকেশন চেক করি। আপনার ফোনের সেটিংসে গিয়ে ভাষা পরিবর্তন করে ইংরেজি করে নিন (যদি অন্য কিছু থাকে)। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা ইমেইল—সবকিছুর ইন্টারফেস যখন ইংরেজিতে থাকবে, তখন আপনার চোখ অভ্যস্ত হয়ে উঠবে। এমনকি সকালে যদি কাউকে মেসেজ পাঠাতে হয়, চেষ্টা করুন ছোট কোনো ইংরেজি বাক্য লিখতে। যেমন- "Good morning, hope you have a great day!"

ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করুন

একদিনে ফ্লুয়েন্ট হওয়ার চেষ্টা করবেন না। বরং ছোট ছোট লক্ষ্য বা 'মাইক্রো গোল' সেট করুন। যেমন- আজকের লক্ষ্য হলো সকালে অন্তত ৫ মিনিট ইংরেজি পডকাস্ট শোনা এবং ৩টি নতুন ইংরেজি শব্দ শেখা। এই ছোট ছোট বিজয়গুলো আপনাকে অনেক বেশি আনন্দ দেবে এবং প্রতিদিন অভ্যাসটি চালিয়ে যেতে উৎসাহ যোগাবে। সকালে শেখা সেই তিনটি শব্দ সারাদিন বিভিন্ন কথায় ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।

উপসংহার

সকালে উঠেই ইংরেজিতে কথা বলার অভ্যাস গড়া মানে শুধু একটি ভাষা শেখা নয়, এটি নিজের ব্যক্তিত্বকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়া। শুরুতে হয়তো একটু কঠিন মনে হতে পারে, মনে হতে পারে 'এসব করে কি আদেও লাভ হবে?' কিন্তু বিশ্বাস রাখুন, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বালুকণা দিয়েই মহাদেশ তৈরি হয়। আপনার প্রতিদিনের এই ১০-১৫ মিনিটের ইংরেজি চর্চাই আপনাকে কয়েক মাস পর একজন আত্মবিশ্বাসী বক্তা হিসেবে গড়ে তুলবে। তাই আগামীকাল সকাল থেকেই শুরু হোক আপনার নতুন যাত্রা। শুভকামনা রইল!