ইংরেজি শেখা কঠিন মনে হচ্ছে? এই ৫টি কথা মনে রাখুন

ভূমিকা: ইংরেজি কি সত্যিই একটা বিভীষিকা?
রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন, হঠাৎ একজন বিদেশি পর্যটক এসে আপনাকে ইংরেজিতে পথের ঠিকানা জিজ্ঞেস করলেন। অথবা ক্লাসে স্যার হুট করে ইংরেজিতে কিছু বলতে বললেন। এই অবস্থায় আমাদের অনেকেরই বুক ধড়ফড় শুরু হয়, কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমে। মনে হয়, ইস! যদি মাটি ফাঁক হতো আর আমি তার ভেতর ঢুকে যেতাম! যদি আপনার জীবনের গল্পটাও এমন হয়, তবে প্রথমেই একটা কথা জানিয়ে রাখি—আপনি একা নন। কোটি কোটি মানুষের কাছে ইংরেজি আজও এক অজানা রহস্যময় অরণ্য।
আমরা ছোটবেলা থেকে গ্রামারের বই পড়েছি, টেনস আর ভয়েস চেঞ্জ মুখস্ত করেছি, তবুও যখন কথা বলার সময় আসে, তখন শব্দ খুঁজে পাই না। কেন এমন হয়? কারণ আমরা ইংরেজিকে একটি 'বিষয়' হিসেবে পড়েছি, 'ভাষা' হিসেবে নয়। আজ এই ব্লগে আমি আপনার সেই ভয় দূর করতে ৫টি এমন গূঢ় সত্য এবং কৌশল নিয়ে আলোচনা করব, যা আপনার ইংরেজি শেখার যাত্রাকে আমূল বদলে দেবে। চলুন শুরু করা যাক!
১. ভুল করা মানেই আপনি শিখছেন
আমাদের দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইংরেজি নিয়ে সবচেয়ে বড় ভয় হলো 'লোক হাসাহাসি করবে'। আমরা যখন বাংলায় ভুল বলি, তখন কেউ আমাদের দিকে বাঁকা চোখে তাকায় না। কিন্তু ইংরেজিতে একটা 'Am' এর জায়গায় 'Is' বলে ফেললেই যেন মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যায়। আপনার মনে এই ভয়টা গেঁথে আছে বলেই আপনি মুখ খুলতে পারছেন না।
বাস্তবতা হলো, আপনি যদি কোনো ভুল না করেন, তার মানে আপনি নতুন কিছু শিখছেন না। একটি শিশু যখন কথা বলা শুরু করে, সে কি শুরুতেই শুদ্ধ ব্যাকরণ মেনে কথা বলে? মোটেও না। সে ভুলভাল আধো-আধো বুলি বলে, আর এভাবেই সে শিখতে থাকে। ইংরেজি শেখার ক্ষেত্রেও আপনাকে সেই শিশুর মানসিকতা ধারণ করতে হবে। মনে রাখবেন, ভুল করা মানে আপনি চেষ্টা করছেন। যারা কিছু করছে না, তারা কোনো ভুলও করছে না। সুতরাং, ভুল করতে দ্বিধা করবেন না। যত বেশি ভুল করবেন, তত দ্রুত আপনি নিজের ত্রুটিগুলো বুঝতে পারবেন।
২. ইংরেজিতে চিন্তা করার অভ্যাস তৈরি করুন
আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো আমরা প্রথমে বাংলাতে চিন্তা করি, তারপর সেটাকে মনে মনে ইংরেজিতে অনুবাদ করার চেষ্টা করি। এই অনুবাদ প্রক্রিয়ায় অনেকটা সময় ব্যয় হয়, যার ফলে সাবলীলভাবে কথা বলা সম্ভব হয় না। এই বাধা অতিক্রম করার উপায় হলো 'Thinking in English'।
আপাতদৃষ্টিতে এটা কঠিন মনে হতে পারে, কিন্তু ছোট ছোট পদক্ষেপে এটি সম্ভব। ধরুন, আপনি সকালে ঘুম থেকে উঠেছেন। মনে মনে বলুন, "I need to wake up now." ব্রাশ করার সময় ভাবুন, "The water is cold." লাঞ্চ করার সময় ভাবুন, "The food is delicious." অর্থাৎ সারা দিন আপনি যা দেখছেন বা ভাবছেন, সেগুলোকে ছোট ছোট ইংরেজি বাক্যে রূপান্তর করুন। যখন আপনি মনে মনে ইংরেজি বলা শুরু করবেন, তখন আপনার মস্তিষ্ক এই ভাষার সাথে অভ্যস্ত হয়ে যাবে। কয়েক সপ্তাহ এই অভ্যাস চালিয়ে দেখুন, দেখবেন কথা বলার সময় আপনার মুখ দিয়ে আপনাআপনি ইংরেজি শব্দ বেরিয়ে আসছে।
৩. গ্রামারকে যমের মতো ভয় পাওয়া বন্ধ করুন
আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় ইংরেজি শেখার শুরুটাই হয় গ্রামার দিয়ে। প্রেজেন্ট ইনডেফিনিট টেনস থেকে শুরু করে ন্যারেশন—সব আমাদের মুখস্ত করতে হয়। কিন্তু সত্যি কথা বলতে কি, সাবলীল ইংরেজি বলার জন্য আপনাকে অক্সফোর্ড ডিকশনারি বা রে অ্যান্ড মার্টিনের গ্রামার বই গিলে খেতে হবে না।
বিলেতের একজন নিরক্ষর মানুষ কিন্তু গ্রামার না জেনেই নিখুঁত ইংরেজিতে কথা বলেন। তিনি কীভাবে শিখেছেন? শুনে শুনে। আপনি যখন কারো সাথে কথা বলেন, তখন তিনি আপনার 'Past Participle' ঠিক আছে কি না তা দেখেন না, তিনি দেখেন আপনি আপনার মনের ভাব প্রকাশ করতে পারছেন কি না। তাই শুরুতে গ্রামারের জটিল নিয়মে না ডুবে ছোট ছোট বাক্য গঠন শিখুন। একবার যখন কথোপকথনে সাবলীল হবেন, তখন ব্যাকরণগত ত্রুটিগুলো আপনাআপনি ঠিক হয়ে যাবে। ভাষা হলো মনের ভাব প্রকাশের মাধ্যম, ব্যাকরণ প্রদর্শনের প্রদর্শনী নয়।
৪. বিনোদনের মাধ্যমে ইংরেজি শিখুন (সহজ মাধ্যম)
বই পড়ে অনেক সময় বিরক্তি আসতে পারে। তাই ইংরেজি শেখার সবচেয়ে কার্যকর এবং আনন্দদায়ক উপায় হলো বিনোদন। আপনি কি মুভি দেখতে ভালোবাসেন? তাহলে বাংলা ডাবিং না দেখে সাবটাইটেলসহ ইংরেজি মুভি দেখা শুরু করুন। এতে একই সাথে আপনার 'Listening Skill' এবং নতুন শব্দভাণ্ডার (Vocabulary) সমৃদ্ধ হবে।
এছাড়া ইউটিউবে আপনার পছন্দের বিষয়ের ওপর ইংরেজি ভিডিও দেখুন। সেটা হতে পারে রান্না, খেলাধুলা বা প্রযুক্তি। পডকাস্ট শুনুন। যখন আপনি আপনার পছন্দের বিষয় নিয়ে ইংরেজিতে কিছু শুনবেন বা দেখবেন, তখন শিখতে কষ্ট হবে না। আপনার কান যখন ইংরেজি শব্দের ধ্বনির সাথে পরিচিত হয়ে যাবে, তখন আপনার জন্য ওই ভাষায় কথা বলা অনেক সহজ হয়ে যাবে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট ইংরেজি শুনুন—এটা আপনার উন্নতিতে জাদুর মতো কাজ করবে।
৫. নিয়মিত অনুশীলনই হলো সাফল্যের চাবিকাঠি
ইংরেজি কোনো ম্যাজিক নয় যে এক রাতে শিখে ফেলবেন। এটি একটি দক্ষতা (Skill), যেমনটা হলো সাঁতার কাটা বা সাইকেল চালানো। আপনি যদি বছরের পর বছর সাঁতার শেখার বই পড়েন কিন্তু পানিতে না নামেন, তবে কোনোদিনই সাঁতার শিখতে পারবেন না। ইংরেজিও ঠিক তেমন। আপনাকে চর্চা করতে হবে।
বন্ধু বা পরিবারের কারো সাথে নিয়মিত কথা বলার চেষ্টা করুন। কেউ না থাকলে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের সাথে কথা বলুন। ইন্টারনেটে অনেক ফ্রি অ্যাপস আছে যেখানে বিদেশি বন্ধুদের সাথে কথা বলা যায়। মোট কথা, আপনার প্রতিদিনের রুটিনে ইংরেজিকে জায়গা করে দিতে হবে। মাসে এক দিন ১০ ঘণ্টা পড়ার চেয়ে প্রতিদিন মাত্র ২০ মিনিট চর্চা করা অনেক বেশি কার্যকর।
উপসংহার: সাহস ধরে রাখুন
পরিশেষে বলতে চাই, ইংরেজি কোনো ভয়ের বস্তু নয়, এটি একটি সুযোগ। এটি জানার মাধ্যমে আপনি সারা বিশ্বের জ্ঞানভাণ্ডারের দরজা আপনার জন্য খুলে দিচ্ছেন। মনে রাখবেন, আজকের দিনটি আপনার প্রথম ভুল করার দিন হতে পারে, কিন্তু কয়েক মাস পর এটিই হতে পারে আপনার সফলতার গল্প।
নিজের ওপর বিশ্বাস হারাবেন না। ধৈর্য ধরুন এবং নিয়মিত প্র্যাকটিস করুন। ভুল হোক, হাসাহাসি হোক—দিনশেষে আপনি একটি নতুন ভাষা শিখেছেন, সেটাই সবচেয়ে বড় বিজয়। আপনার ইংরেজি শেখার যাত্রা শুভ হোক!