বাংলা প্রবাদের ইংরেজি Equivalent — মজায় মজায় শিখুন Idioms
মুখবন্ধ: কথা যখন হবে জম্পেশ!
কখনও কি এমন হয়েছে যে কোনো একজন বন্ধুকে খুব কড়া করে কিছু বলতে চাইছেন, কিন্তু ঠিক সেই জুতসই বাংলা প্রবাদটার ইংরেজি খুঁজে পাচ্ছেন না? ধরুন আপনি বলতে চাচ্ছেন 'অল্পবিদ্যা ভয়ংকরী', কিন্তু ইংরেজি বলতে গিয়ে আটকে গিয়ে আমতা আমতা করছেন। আমরা যখন নতুন ভাষা শিখি, তখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জটা আসে আমাদের সংস্কৃতি ও দৈনন্দিন প্রবাদগুলোকে সেই ভাষায় রূপান্তর করা নিয়ে। কারণ প্রবাদ বা Idioms শুধু শব্দ নয়, এগুলি জীবনের গভীর অভিজ্ঞতা।
আজকের ব্লগে আমরা কেবল কিছু তালিকার মতো ইংরেজি পড়ব না, বরং আড্ডার ঢঙে শিখব কীভাবে বাংলা প্রবাদগুলোর সমার্থক ইংরেজি প্রবাদগুলো ব্যবহার করতে হয়। বিশ্বাস করুন, আপনি যদি মুড বুঝে একটা সঠিক Idiom ব্যবহার করতে পারেন, তবে আপনার ইংরেজি বলার মান এক নিমিষেই সাধারণ থেকে অসাধারণ পর্যায়ে চলে যাবে। তাহলে চলুন, ডুব দেওয়া যাক প্রবাদের এই মজার ভুবনে!
১. অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ: যখন অতিরিক্ত বিনয় নিয়ে সন্দেহ হয়
আমরা প্রায়ই এমন মানুষের দেখা পাই যারা একটু বেশিই খাতির করেন। তখন আমাদের মনে খটকা লাগে। বাংলায় আমরা বলি 'অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ'। আপনি কি জানেন এর ইংরেজি ভার্সনটিও বেশ চমৎকার? ইংরেজিতে একে বলা হয়: 'Too much courtesy, too much craft.'
কোর্টাসি মানে বিনয় আর ক্র্যাফট মানে চতুরতা। ভেবে দেখুন, দুই ভাষার মানুষের ভাবনার ধরন কিন্তু একই। যে ব্যক্তি বেশি বিনয় দেখাচ্ছে, তার মনে নিশ্চয়ই কোনো গোপন উদ্দেশ্য বা চতুরতা আছে। যখনই দেখবেন কেউ আপনার সাথে অপ্রয়োজনীয় মিষ্টি কথা বলছে, মনে মনে এই ইডিয়মটি ঝালিয়ে নিতে পারেন।
২. অল্পবিদ্যা ভয়ংকরী: কিছু জেনে সব জান্তার ভাব
আমাদের আশেপাশে এমন অনেকেরই দেখা মেলে যারা একটি বিষয়ের ওপর ইউটিউবে একটা পাঁচ মিনিটের ভিডিও দেখেই সেই বিষয়ের পিএইচডি হোল্ডার সেজে বসেন! এই পরিস্থিতিতে আমরা সবসময় বলি—'অল্পবিদ্যা ভয়ংকরী'। ইংরেজিতে এর প্রতিশব্দ হলো: 'A little learning is a dangerous thing.'
এটি আক্ষরিক অর্থেই ব্যবহার হয়। এখানে লিটল লার্নিং বা অল্প জ্ঞানকে বিপজ্জনক বলা হয়েছে। আমরা যখন ইংরেজিতে কারো ভুল ধরিয়ে দিতে চাই বা সতর্ক করতে চাই, তখন এটি ব্যবহার করা অত্যন্ত কার্যকরী। বিশেষ করে একাডেমিক বা প্রফেশনাল লাইফে এই ইডিয়মটি আপনার ইমেজে একটি বুদ্ধিবৃত্তিক ছোঁয়া যোগ করবে।
৩. উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে: যখন দোষ চাপানো হয় অন্যের ওপর
অফিসে বা পরিবারে এমন তো হয়ই—কাজ করেছে রহিম, কিন্তু বকা খেল করিম। এর জন্য আমাদের ট্রেডমার্ক বাংলা প্রবাদ হলো 'উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে'। এর খুব সুন্দর একটি ইংরেজি আছে: 'To shift the blame on someone else' অথবা আরও স্পেসিফিক ভাবে প্রবাদ হিসেবে বললে— 'One must pay for another's fault.'
তবে প্রবাদ হিসেবে ইংরেজিতে জনপ্রিয় একটি কথা আছে, 'The scapegoat approach'। স্কেপগোট মানে বলির পাঁঠা। কাউকে অযথা দোষী সাব্যস্ত করা হলে আপনি স্মার্টলি বলতে পারেন, "Don't try to make me your scapegoat!" (আমাকে তো উদোর পিণ্ডি বুধোর ঘাড়ে করার চেষ্টা করো না!)।
৪. অতি দর্পে হত লঙ্কা: অহংকারের পতন
রাবণ তার ক্ষমতার দম্ভের ফলেই লঙ্কা হারিয়েছিলেন। সেই থেকেই এই প্রবাদের উৎপত্তি। ইংরেজিতে এর সমার্থক হলো: 'Pride goes before a fall.'
বাস্তব জীবনে মানুষের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস যখন ধরাশায়ী হয়, তখন আমরা এটি ব্যবহার করি। লক্ষ্য করুন, বাংলার সাথে ইংরেজির লিটারেল মানে একটু ভিন্ন হলেও মর্মকথা কিন্তু এক—অহংকার পতনের মূল। আপনি যখন কারো ঔদ্ধত্য দেখে বিরক্ত, তখন তাকে নরম সুরে এই প্রবাদটি মনে করিয়ে দিতে পারেন।
৫. চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে: যখন সব শেষ হওয়ার পর উপলব্ধি আসে
ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর আমরা সবাই খুব জ্ঞানী হয়ে যাই, তাই না? তখন মনে হয়, ইস! এটা করলে ওটা হতো না! এই অবস্থাকেই আমরা বলি 'চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে'। এর ইংরেজিটি বেশ ক্ল্যাসিক: 'After death comes the physician.'
মারা যাওয়ার পর ডাক্তার আসার যেমন কোনো মানে হয় না, তেমনি ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর আফসোস করারও কোনো ফায়দা নেই। আপনি যখন কোনো ফ্রেন্ডকে বোঝাতে চাইছেন যে এখন আর পস্তিয়ে লাভ নেই, তখন সরাসরি এই প্রবাদটি ইউজ করতে পারেন।
৬. কয়লা ধুইলেও ময়লা যায় না: স্বভাবের পরিবর্তন কি সম্ভব?
অনেকে আছে যারা শতবার বললেও তাদের কুঅভ্যাস ছাড়ে না। তখন আমরা হতাশ হয়ে বলি, 'কয়লা ধুইলে ময়লা যায় না'। ইংরেজিতে এর ইকুইভ্যালেন্ট হচ্ছে: 'Black will take no other hue.'
কালো রং যেমন অন্য কোনো রঙে রাঙানো যায় না (হিউ মানে রং), তেমনি মানুষের স্বভাবও সহজে বদলায় না। আরেকটি ভার্সন হলো: 'Nature cannot be changed.' তবে 'Black will take no other hue' এই কথাটি বেশি কাব্যিক এবং ইমপ্রেসিভ।
৭. নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা: নিজের অক্ষমতা ঢাকার চেষ্টা
আপনার কোনো এক কাজিনকে হয়তো গাইতে বললেন, সে সুর তুলতে না পেরে বলল মাইক্রোফোনটাই নষ্ট! এই সিনারিওতে আমরা বলি—'নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা'। এর ফেমাস ইংরেজি হলো: 'A bad workman quarrels with his tools.'
একজন খারাপ কারিগর সবসময় তার যন্ত্রপাতির দোষ দেয়। চমৎকার না মিলটা? এটি কেবল কথার কথা নয়, কর্মক্ষেত্রে এই প্রবাদটির ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। কেউ যখন অজুহাত দিয়ে পার পেতে চায়, তাকে এটি দিয়ে কুপোকাত করা যায়।
৮. চোরে চোরে মাসতুতো ভাই: যখন মিলে যায় দুই দুষ্টু
দুজন খারাপ মানুষ বা সমভাবাপন্ন মানুষ যখন একসাথে জোট বাঁধে, তখন আমরা মজার ছলেই বলি 'চোরে চোরে মাসতুতো ভাই'। ইংরেজি ভাষাভাষীরাও কিন্তু একই কথা বলে, তবে তাদের বলার ঢঙটা একটু অন্যরকম: 'Birds of a feather flock together.'
এর আক্ষরিক মানে হলো, একই পালকের পাখিরা একসাথেই ওড়ে। এটি একটি অত্যন্ত পজিটিভ এবং নেগেটিভ—উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হতে পারে। তবে অধিকাংশ সময় এটি সারকাস্টিকালি ব্যবহার করা হয়।
৯. যত গর্জে তত বর্ষে না: কেবল ফাঁকা আওয়াজ
আকাশে অনেক মেঘ দেখলেই কি বৃষ্টি হয়? ঠিক তেমনি অনেক মানুষ আছে যারা অনেক হাঁকডাক ছাড়ে কিন্তু কাজের বেলায় নেই। একে আমরা বলি 'যত গর্জে তত বর্ষে না'। ইংরেজিতে এর প্রতিশব্দ: 'Barking dogs seldom bite.'
ঘেউ ঘেউ করা কুকুর সচরাচর কামড়ায় না। বাস্তব জীবনে কেউ যখন আপনাকে অহেতুক হুমকি দেয় বা ভয় দেখায়, তখন ঘাবড়ে না গিয়ে মনে মনে বলতে পারেন—"He is just a barking dog!"
১০. দশের লাঠি একের বোঝা: একতার শক্তি
সবাই মিলে কাজ করলে পাহাড় সমান বোঝাও হালকা হয়ে যায়। 'দশের লাঠি একের বোঝা'—এর ইংরেজি হলো: 'Many a little makes a mickle.' অথবা আরও প্রচলিত একটি আছে: 'Unity is strength.'
তবে প্রবাদ হিসেবে 'Many hands make light work' বেশি ব্যবহার করা হয়। যখন কোনো বড় প্রজেক্ট বা টিমওয়ার্কের কথা আসবে, তখন এই প্রবাদটি সবার মধ্যে একতা ফিরিয়ে আনতে ম্যাজিকের মতো কাজ করবে।
নিজে আরও বেশি ইডিয়মস শেখার কিছু টিপস:
- পড়ুন এবং নোট নিন: যখনই কোনো ইংরেজি মুভি বা সিরিজ দেখবেন, দেখবেন প্পত্রিকার হেডলাইনে এই জাতীয় ইডিয়মস প্রচুর ব্যবহৃত হয়। সেগুলো লিখে রাখুন।
- একঘেয়েমি কাটান: যেমন ধরুন আপনি খুব ক্লান্ত। 'I am very tired' না বলে বলতে পারেন 'I am dog-tired' বা 'I am exhausted'। একইভাবে প্রবাদগুলোকেও দৈনন্দিন আলাপে ঢুকিয়ে নিন।
- মাঝেমধ্যে কনফিউশন কাটান: ইন্টারনেটে অনেক ডিকশনারি আছে যেখানে 'Idiom Meaning and Origin' দেওয়া থাকে। একটু চেক করে নিন কেন এই প্রবাদটি আসলো। এতে মনে রাখা সহজ হবে।
উপসংহার: ভাষার অলঙ্কার হলো প্রবাদ
প্রবাদ বা প্রবচন কেবল কতগুলো শব্দের সমষ্টি নয়, এটি একটি জাতির ইতিহাস এবং সংস্কৃতির নির্যাস। আমরা যখন বাংলা প্রবাদের ইংরেজি ইকুইভ্যালেন্টগুলো শিখি, তখন আমরা দুটি ভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে এক অদ্ভুত মিল খুঁজে পাই। ইংরেজি কথা বলা মানে কেবল গ্রামার সঠিকভাবে সাজানো নয়, বরং স্মার্টলি মনের ভাব প্রকাশ করা। আর এই ‘স্মার্ট’ হওয়ার পথে ইডিয়ম বা প্রবাদগুলোই আপনার প্রধান হাতিয়ার।
আশা করি আজকের এই আলোচনা আপনাদের ইংরেজি শেখার পথকে আরও আনন্দময় করে তুলবে। পরবর্তী আড্ডায় বা অফিসে বন্ধু-সহকর্মীদের সাথে কথা বলার সময় এই প্রবাদগুলো ব্যবহার করতে ভুলবেন না যেন! মনে রাখবেন, প্র্যাকটিসই আপনাকে পারফেক্ট করবে। আপনার প্রিয় বাংলা প্রবাদ কোনটি? সেই প্রবাদটির ইংরেজিও কি আপনি জানেন? কমেন্টে আমাদের জানিয়ে দিন!